বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ছাড়া আমাদের একদিনও চলে না। কিন্তু আপনি কি জানেন, খুব শীঘ্রই আপনার পছন্দের স্মার্টফোনটি কেনা আপনার সাধ্যের বাইরে চলে যেতে পারে? বিভিন্ন গ্লোবাল রিপোর্ট এবং টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ২-৩ বছর প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে এক বিশাল অস্থিরতা আসতে যাচ্ছে।
আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব কেন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং পিসি পার্টসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে এবং এই সংকট কতদিন স্থায়ী হতে পারে।
কেন হঠাৎ বাড়ছে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম?
স্মার্টফোনের দাম বাড়ার পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই, বরং কয়েকটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে:
১. র্যাম (RAM) ও স্টোরেজ চিপের তীব্র সংকট
স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের প্রাণ হলো এর মেমোরি চিপ (RAM ও ROM)। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এই চিপের দাম জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে র্যামের দাম প্রায় ৫০% থেকে শুরু করে ক্ষেত্রবিশেষে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ডিভাইসের মূল দামের ওপর।
চিপ তৈরির নতুন ফ্যাক্টরি বসানো অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল কাজ। একটি নতুন কারখানা পূর্ণ উৎপাদন শুরু করতে প্রায় ৩ থেকে ৪ বছর সময় লাগে। এর মানে হলো, বর্তমানে যে চিপ সংকট শুরু হয়েছে, তা ২০২৮ বা ২০২৯ সালের আগে পুরোপুরি সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
- বাজেট ফোনের দাম বৃদ্ধি: যারা ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে ফোন কিনতে পছন্দ করেন, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। চিপের দাম বাড়ায় এই বাজেটের ফোনগুলোর দাম ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
- স্পেসিফিকেশন কমে যাওয়া: কোম্পানিগুলো ফোনের দাম খুব বেশি না বাড়িয়ে র্যামের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। যেমন: আগে যে দামে ৮ জিবি র্যামের ফোন পাওয়া যেত, এখন হয়তো সেই দামে ৬ জিবি র্যামের ফোন কিনতে হবে।
- ল্যাপটপ ও পিসি পার্টস: ল্যাপটপের ক্ষেত্রে দাম প্রায় ২০-৩০% বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
- দেরি না করে এখনই কিনুন: আপনি যদি ভাবেন আগামী ঈদে বা কয়েক মাস পর দাম কমবে, তবে ভুল করবেন। বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী দাম কমার চেয়ে বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি।
- প্রয়োজন যাচাই করুন: বিলাসিতার জন্য ফোন পরিবর্তন না করে বর্তমান ফোনটি আরও কিছুদিন ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
- সেকেন্ড হ্যান্ড বা রিফারবিশড মার্কেট: ভালো কন্ডিশনের পুরানো ফোন এখন একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
প্রযুক্তির এই সংকট বিশ্বব্যাপী। এআই বিপ্লব আমাদের জীবনকে সহজ করলেও, সাধারণ হার্ডওয়্যারের বাজারে এটি একটি বড় চাপ তৈরি করেছে। আগামী ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত আমাদের টেক কেনাকাটায় কিছুটা মিতব্যয়ী হওয়া ছাড়া উপায় নেই।
আপনার কি মনে হয়? স্মার্টফোনের এই বাড়তি দাম কি আপনি মেনে নিতে পারবেন? কমেন্টে আমাদের জানান।
প্রযুক্তির এমন আরও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে আমাদের ব্লগটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন!